মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়: যা আপনার ত্বককে ফিরিয়ে দেবে তার হারানো জেল্লা

মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়: যা আপনার ত্বককে ফিরিয়ে দেবে তার হারানো জেল্লা


ব্রণ – এই ছোট্ট শব্দটাই যেন অনেকের জীবনের বড়সড় ভিলেন! কল্পনা করুন, আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে যাবেন, আর হঠাৎ দেখলেন মুখে একটা লালচে ফোঁড়া এসে বসেছে, যেন বলছে, "হ্যালো, আমি তোমার পার্টি স্পয়লার!" বিশেষ করে টিনএজার মেয়েদের জন্য তো এটা একটা নিয়মিত যুদ্ধ। ত্বকের তৈলগ্রন্থিগুলো যখন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে পড়ে, তখনই শুরু হয় এই সমস্যা – পুঁজ জমে, ফুলে উঠে, আর শেষমেশ ব্রণের রূপ নেয়। কিন্তু চিন্তা নেই, বাজারের দামি কসমেটিক্সের পেছনে ছুটে না গিয়ে, আপনি ঘরোয়া উপায়গুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন। এগুলো প্রাকৃতিক, নিরাপদ, আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার – কোনো সাইড ইফেক্টের ভয় নেই! আজ আমরা দেখব মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত, আর সেই সাথে কিছু টিপস যা আপনার ত্বককে রাখবে সুস্থ-সতেজ।

মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত ঘরোয়া উপায়: প্রাকৃতিক ম্যাজিক যা কাজ করে

ঘরের কোণে লুকিয়ে থাকা উপাদানগুলো দিয়ে ব্রণের সাথে যুদ্ধ করা যায়, আর তা যদি হয় মজার স্টাইলে, তাহলে তো কথাই নেই। চলুন, এক এক করে দেখি এই সহজ পদ্ধতিগুলো, যা আপনার মুখের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করবে, দাগ কমাবে, আর ত্বককে দেবে একটা ফ্রেশ লুক।


  • মুলতানি মাটি: তেলের শত্রু নম্বর ওয়ান মুখ যদি তেলতেলে হয়ে থাকে, তাহলে ব্রণ তো আসবেই – যেন তেলের পুলে সাঁতার কাটছে! মুলতানি মাটিকে পানি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান। এটা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয়, আর আপনার মুখ হয়ে ওঠে ম্যাট ফিনিশ। সপ্তাহে দু-তিনবার চেষ্টা করুন, দেখবেন ব্রণের আক্রমণ কমে যাবে।

  • শশার রস: কুলিং এজেন্ট বাইরে থেকে ফিরে এসে মুখটা যেন আগুনের মতো গরম? শশার রস দিয়ে ধুয়ে নিন বা আইস কিউব বানিয়ে ঘষুন। এটা তেল কমায়, ছিদ্রগুলোকে টাইট করে, আর ব্রণের জ্বালা কমায়। মজার কথা, এটা ব্যবহার করলে মুখটা এমন ফ্রেশ লাগবে, যেন স্পা থেকে ফিরলেন!

  • শশার রস, চালের গুঁড়ো আর মধু: স্ক্রাবের সুপারহিরো শশার রসের সাথে চালের গুঁড়ো মিশিয়ে স্ক্রাব বানান, আর যদি মধুতে অ্যালার্জি না থাকে, তাহলে সামান্য যোগ করুন। সপ্তাহে দুবার লাগালে ব্ল্যাকহেডস আর হোয়াইটহেডস বিদায় নেবে। কিন্তু সাবধান, ব্রণ ফেটে থাকলে স্ক্রাব এড়িয়ে চলুন – না হলে যেন যুদ্ধক্ষেত্রে আগুন লাগানো!

  • কাঁচা হলুদ আর চন্দনকাঠের গুঁড়ো: প্রাচীন রহস্য সমান পরিমাণ কাঁচা হলুদ বাটা আর চন্দন গুঁড়ো পানি দিয়ে পেস্ট বানান। ব্রণের জায়গায় লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এটা শুধু ব্রণ দূর করে না, দাগও কমায়। হলুদের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ যেন ব্রণের বিরুদ্ধে একটা শিল্ড!

  • আপেল আর মধু: স্বাদিষ্ট সল্যুশন আপেলের পেস্টে ৪-৬ ফোঁটা মধু মিশিয়ে মুখে লাগান, কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। এটা ত্বককে টাইট রাখে, রঙ ফর্সা করে, আর দাগ কমায়। সপ্তাহে ৫-৬ বার করলে ফলাফল দেখে আপনি নিজেই অবাক হবেন – যেন আপেলের মতো ফ্রেশ!

  • তুলসি পাতার রস: আয়ুর্বেদিক ওয়ান্ডার তুলসি পাতা বেটে রস বের করে ব্রণে লাগান, শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে নিন। এর আয়ুর্বেদিক গুণ ব্রণের সংক্রমণ কমায়। সকালে উঠে এটা করলে দিনটা শুরু হবে একটা পজিটিভ নোটে!

  • চন্দন গুঁড়ো, গোলাপজল আর লেবুর রস: দাগের ডাস্টার চন্দন গুঁড়োতে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানান, তারপর ২-৩ ফোঁটা লেবু যোগ করুন। গোলাপজল না চললে মধু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ৩-৪ বার লাগালে দাগ কমে যাবে – আপনার ত্বক হবে মসৃণ, যেন নতুন ক্যানভাস!


  • দারুচিনি গুঁড়ো আর গোলাপজল: স্পাইসি রিলিফ দারুচিনি গুঁড়োতে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানান, ব্রণে লাগিয়ে ২০ মিনিট রাখুন। এটা সংক্রমণ, চুলকানি আর ব্যথা কমায়। মজা করে বলি, এটা যেন ব্রণের জন্য একটা "স্পাইসি ট্রিটমেন্ট"!

  • ডিমের সাদা অংশ: নাইট টাইম ম্যাজিক রাতে ডিমের সাদা অংশ ব্রণে ম্যাসাজ করে রেখে দিন, সকালে ধুয়ে ফেলুন। লেবুর রস যোগ করলে আরও ভালো। এটা খসখসে ভাব দূর করে – যেন রাতারাতি ত্বকের রিপেয়ার!

  • পেঁপে আর চালের গুঁড়ো: ক্লিনজিং কম্বো পাকা পেঁপে চটকে লেবুর রস আর চালের গুঁড়ো মিশান। মুখে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে নিন। অথবা ঘৃতকুমারী ব্যবহার করুন। এটা ত্বক পরিষ্কার রাখে, ব্রণ প্রতিরোধ করে।

  • মুলতানি মাটি আর নিম পাতা: অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল পাওয়ারহাউস নিম পাতা বেটে মুলতানি মাটি আর গোলাপজল মিশান। মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নিন। এটা ব্রণের জন্য একটা সুপার ডিফেন্স!

  • পুদিনা পাতা: সামার সেভিয়র গরমে ফুসকুড়ি আর ব্রণ? পুদিনা বেটে ২০ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে নিন। এটা কুলিং করে ব্রণ কমায়।

  • স্পেশাল প্যাক: রক্তচন্দন, আনারের খোসা আর দুধ রক্তচন্দন পাউডার আর আনারের খোসা গুঁড়োতে দুধ বা টকদই মিশিয়ে পেস্ট বানান। নিয়মিত লাগালে দাগ কমে, ত্বক চকচকে হয়।

ব্রণ থেকে মুক্তির টিপস: ছোট অভ্যাস, বড় পরিবর্তন

উপায়গুলো তো জানলেন, কিন্তু কিছু ডেইলি টিপস ছাড়া কাজ হবে না। এগুলো অনুসরণ করলে ব্রণ যেন আপনার মুখ থেকে ছুটি নেবে:

  • প্রতিদিন ৯-১০ গ্লাস পানি খান – ত্বককে হাইড্রেটেড রাখুন, না হলে ব্রণের পার্টি চলতেই থাকবে!
  • রাতের খাবারের পর মৌসুমি ফল খান, তেল-যুক্ত ফাস্ট ফুড এড়ান। ত্বক সতেজ থাকবে।
  • বাইরে থেকে ফিরে ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন বা হালকা স্টিম নিন – ধুলোবালি যেন পার্টি না করে।
  • নখ দিয়ে ব্রণ খোঁটবেন না! এটা শুধু দাগ বাড়ায়। মেকআপ এড়ান, আর দিনে দুবার তেলমুক্ত ক্লিনজার ব্যবহার করুন।

যদি ব্রণের সমস্যা দীর্ঘদিনের আর কিছুতেই না যায়, তাহলে দেরি না করে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার দেখান। কিন্তু তার আগে এই ঘরোয়া উপায়গুলো চেষ্টা করে দেখুন – মুখে ব্রণ হলে কি মাখা উচিত, এখন তো জানেনই। প্রাকৃতিক উপাদানগুলো দিয়ে শুরু করুন, আর দেখুন আপনার ত্বক কীভাবে ধন্যবাদ জানায়! যদি কোনো অ্যালার্জি থাকে, তাহলে প্যাচ টেস্ট করে নিন। সুন্দর ত্বকের যাত্রা শুরু হোক!

Post a Comment

Previous Post Next Post