infinix gt 30 pro price in bangladesh || গেমিং স্মার্টফোনের বস

 infinix gt 30 pro price in bangladesh || গেমিং স্মার্টফোনের বস -গেমিং করার সময় হঠাৎ ফোন ল্যাগ করা আর চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে গিয়ে মাঝপথে ভেঙে পড়ে যাওয়ার কষ্ট, দুটোই প্রায় সমান। এই কষ্ট দূর করতে বাজারে যারা একটি জুতসই গেমিং ফোন খোঁজে, তাদের জন্য ইনফিনিক্স সবসময়ই কিছু না কিছু চমক নিয়ে আসে। এবার তাদের তুরুপের তাস হলো Infinix GT 30 Pro (Official)। প্রফেশনাল গেমারদের মন জয় করতে এবং সাধারণ ইউজারদের পকেট বাঁচাতে এই ফোনটি রীতিমতো হুংকার দিয়ে বাজারে নেমেছে।

infinix gt 30 pro price in bangladesh || গেমিং স্মার্টফোনের বস


ডিজাইন এবং বিল্ড কোয়ালিটি: হাতে নিলেই ফিল আসবে 'আমি গেমার'

বোরিং ডিজাইনের দিন শেষ। ফোনটি হাতে নিলে আপনার মনে হবে আপনি কোনো সাই-ফাই মুভির অত্যাধুনিক গ্যাজেট ধরে আছেন।

  • মেকা ডিজাইন ও আরজিবি লাইট: ফোনের পেছনে থাকা 'মেকানিক্যাল লাইট ওয়েভস' বা কাস্টমাইজেবল আরজিবি লাইট আপনাকে জানান দেবে যে, আপনি একজন সিরিয়াস গেমার। গেম জেতার পর এই লাইট যখন আপনার স্টাইলে জ্বলে উঠবে, তখন পাশের জনের হিংসে হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

  • ফিজিক্যাল ট্রিগার: এই ফোনের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর ডেডিকেটেড 'জিটি ট্রিগার' বা ফিজিক্যাল শোল্ডার বাটন। গেম খেলার সময় এটি আপনাকে একটি চমৎকার সুবিধা দেবে, যার ফলে বন্ধুদের সাথে পাবজি বা কল অফ ডিউটি খেলতে গেলে তারা আপনাকে হ্যাকার ভাবতে বাধ্য হতে পারে।

  • মজবুত গড়ন: গরিলা গ্লাস ৭আই এর প্রোটেকশন এবং আইপি৬৪ ডাস্ট ও স্প্ল্যাশ রেজিস্ট্যান্স থাকার কারণে, সামান্য জল বা ধুলোবালিতে ফোনের কিছু হবে না। ফোনটি ডার্ক ফ্লেয়ার, শ্যাডো অ্যাশ এবং ব্লেড হোয়াইট রঙে পাওয়া যাচ্ছে।

ডিসপ্লে: মাখনের মতো মসৃণ 144Hz এর জাদু

গেমিং ফোনে যদি ডিসপ্লেই ভালো না হয়, তবে তো পুরো টাকাই জলে। ইনফিনিক্স এখানে কোনো কার্পণ্য করেনি।

  • ১.৫কে অ্যামোলেড প্যানেল: ৬.৭৮ ইঞ্চির এই বিশাল LTPS AMOLED ডিসপ্লেতে মুভি দেখা বা গেম খেলা, দুটোই দারুণ উপভোগ্য।

  • রিফ্রেশ রেট ও ব্রাইটনেস: ১৪৪ হার্জ রিফ্রেশ রেট মানে হলো স্ক্রল করার সময় মনে হবে স্ক্রিনে সাবান মাখানো আছে, এতটাই স্মুথ! এর ৪,৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস থাকায়, কড়া রোদে দাঁড়িয়েও স্ক্রিন দেখতে আপনাকে চোখ কুঁচকাতে হবে না।

  • চোখের যত্ন: ২৩০৪ হার্জ পিডব্লিউএম ডিমিং থাকার কারণে সারারাত গেম খেললেও চোখের নিচে কালি পড়ার বা চোখ ব্যথা হওয়ার চান্স খুব কম।

পারফরম্যান্স: ল্যাগিংয়ের ছুটি, গেমিংয়ের ডিউটি

Infinix GT 30 Pro (Official) এর হুডের নিচে রয়েছে একটি দানবীয় প্রসেসর, যা যেকোনো ভারী কাজ হাসতে হাসতে পার করে দেবে।

  • প্রসেসর: ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৮৩৫০ আল্টিমেট চিপসেট। এই চিপসেটটি গেমারদের জন্য বিশেষভাবে অপ্টিমাইজ করা হয়েছে।

  • র‍্যাম ও স্টোরেজ: ১২ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র‍্যামের সাথে আরও ১২ জিবি এক্সটেন্ডেড ভার্চুয়াল র‍্যামের সুবিধা। সাথে রয়েছে ২৫৬ জিবির সুপারফাস্ট ইউএফএস ৪.০ স্টোরেজ। অর্থাৎ, ভারী অ্যাপ লোড হতে সময় নেবে চোখের পলক ফেলার চেয়েও কম।

  • গেমিং এক্সপেরিয়েন্স: এমএলবিবি, পাবজি বা ফ্রি-ফায়ারের মতো গেমগুলোতে অনায়াসে ১২০ এফপিএস পাওয়া যায়। কোনো ফ্রেম ড্রপের গল্প নেই এখানে।

  • কুলিং সিস্টেম: একটানা গেম খেললে ফোন গরম হয়ে ফ্রাইং প্যান হয়ে যায়? এই ফোনে থাকা 'গেমসঅন কুলিং সিস্টেম' এবং বিশাল ভিসি লিকুইড চেম্বার ফোনটিকে সবসময় বরফের মতো না হলেও যথেষ্ট কুল রাখবে।

ক্যামেরা: গেমারদের কি শুধু গেম খেললেই চলে?

সাধারণত গেমিং ফোনগুলোতে ক্যামেরার অবস্থা খুব একটা সুবিধার হয় না। কিন্তু ইনফিনিক্স সেই মিথ ভেঙে দিয়েছে।

  • প্রধান ক্যামেরা: ১০৮ মেগাপিক্সেলের মেইন সেন্সর দিয়ে ছবি তুললে ডিটেইলস আসবে একদম ক্লিয়ার। কালার ব্যালেন্সও বেশ ন্যাচারাল।

  • আল্ট্রাওয়াইড লেন্স: আগের ভার্সনে আল্ট্রাওয়াইড ছিল না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন। এবার ৮ মেগাপিক্সেলের একটি আল্ট্রাওয়াইড লেন্স যুক্ত করা হয়েছে, যা গ্রুপ ছবি তোলার জন্য পারফেক্ট।

  • ভিডিও ও সেলফি: পেছনের ক্যামেরায় ফোর-কে রেজোলিউশনে ৬০ এফপিএস-এ ভিডিও করা যায়, যা কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য আশীর্বাদ। সামনে থাকা ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে সুন্দর সেলফি এবং ফোর-কে ভিডিও কল করা সম্ভব।

ব্যাটারি এবং চার্জিং: সারাদিন গেম, নো টেনশন

ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে যারা পকেটে ইট সমান পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে ঘোরেন, তাদের জন্য এটি শান্তির পরশ।

  • বিশাল ব্যাটারি: ৫,৫০০ এমএএইচ এর বড় ব্যাটারি আপনাকে সারাদিন নিশ্চিন্তে ব্যাকআপ দেবে।

  • সুপারফাস্ট চার্জিং: ৪৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং দিয়ে ফোন খুব দ্রুত চার্জ হয়ে যায়।

  • ওয়্যারলেস চার্জিং: এই বাজেটের ফোনে ৩০ ওয়াটের ওয়্যারলেস চার্জিং এবং ১০ ওয়াটের রিভার্স চার্জিং সুবিধা থাকাটা রীতিমতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

  • বাইপাস চার্জিং: গেমারদের জন্য সবচেয়ে কাজের ফিচার হলো এটি। চার্জে লাগিয়ে গেম খেললে কারেন্ট সরাসরি মাদারবোর্ডে যাবে, ব্যাটারিতে নয়। ফলে ফোন গরম হবে না এবং ব্যাটারির আয়ুও বাড়বে।

দাম এবং লভ্যতা: পকেট ফ্রেন্ডলি নাকি পকেট ফাঁকা?

সব তো বুঝলাম, কিন্তু দাম কত? এখানেই ইনফিনিক্স সবচেয়ে বড় ম্যাজিক দেখিয়েছে।


স্টোরেজ ভেরিয়েন্টঅফিসিয়াল দাম (বাংলাদেশ)
১২ জিবি র‍্যাম + ২৫৬ জিবি স্টোরেজআনুমানিক ৩৭,৯৯৯ টাকা



বাজারের অন্যান্য ব্র্যান্ডের গেমিং ফোনের তুলনায় Infinix GT 30 Pro (Official) এর এই দাম রীতিমতো "পানির দামে রত্ন" পাওয়ার মতো। তবে অফার বা প্রমোশনের ওপর ভিত্তি করে দাম কিছুটা ওঠানামা করতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post