বাংলার বাবারা এক অদ্ভুত চিন্তায় থাকেন—“আমার তো একটাই মেয়ে, এখন আমার মৃত্যুর পর এই অঢেল সম্পত্তির কী হবে?” এই প্রশ্নে অনেকে রাতে ঘুম হারাম করে ফেলেন! মনে মনে বলেন, “ছেলে নাই, মানে সম্পত্তি গেল ভাইয়ের ঘরে!” কিন্তু দাঁড়ান, মুসলিম পারিবারিক আইন কিন্তু বলে, ব্যাপারটা এতটা ‘ট্র্যাজিক’ না! বরং একটু মজারই বটে, যদি আপনি নিয়মটা বুঝে যান।
চলুন তাহলে হাসির ছলে জেনে নিই বাবার সম্পত্তি ভাগের নিয়ম ছেলে না থাকলে, আর সাথে দেখি—কীভাবে মেয়েই হতে পারে ‘বাবার আসল উত্তরাধিকারিণী’।
একটাই মেয়ে হলে—অর্ধেক, কিন্তু রাজকীয় ভাগ!
ধরা যাক, বকুল সাহেবের একটাই মেয়ে—আর ভাই আর ভাইয়ের ছেলে আছে, কিন্তু সম্পর্কটা “টক-মিষ্টি” না, বরং “টক-ঝাল”। এখন তিনি মারা গেলে, ইসলামী আইনে সেই একমাত্র মেয়ে পাবেন মোট সম্পত্তির অর্ধেক।
অর্থাৎ, মেয়ের কপালে “হাফ-রাজ্য”! বাকি অর্ধেক যাবে অন্য ওয়ারিশদের—মানে, সেই প্রিয়(?) ভাই ও ভাইপোর হাতে।
তবে যদি বকুল সাহেবের স্ত্রী তখনও বেঁচে থাকেন, তাহলে স্ত্রীর ভাগ হবে এক-অষ্টমাংশ, মেয়ের অর্ধেক, আর অবশিষ্ট যাবে অন্য উত্তরাধিকারীদের।
একাধিক মেয়ে হলে—দুই–তৃতীয়াংশ ভাগ, কিন্তু সমান সমান!
যদি মেয়ে একাধিক হয় এবং ছেলে না থাকে, তাহলে মেয়েরা একত্রে পাবে মোট সম্পত্তির দুই–তৃতীয়াংশ।
অর্থাৎ, বাবার রাজ্যের প্রায় ৬৬% চলে যাবে মেয়েদের দখলে। এখন যদি এক মেয়ে বলে, “বাবা আমাকে একটু বেশি দিও”, তাহলে বাবা বলবেন, “বাবা ইসলাম বলে—সব মেয়ে সমান!”
বাবা-মা বেঁচে থাকলে?
বাবা বা মা বেঁচে থাকলে, তাঁরা পাবেন মোট এক–তৃতীয়াংশ। কন্যা তখনও তার ভাগ পাবে নিয়মমতো, কিন্তু পুরো সম্পত্তি একা ভোগ করতে পারবে না।
তবে যদি বাবা-মা, ভাই-বোন, কিংবা তাদের ছেলেমেয়ে—কেউ না থাকে, তখন সেই একমাত্র মেয়ে হবে “একক রাজকন্যা”—অর্থাৎ পুরো সম্পত্তির মালিক।
হেবা মানে জীবিত অবস্থায় দান — মেয়েকে আগেই দিন, নিশ্চিন্ত থাকুন!
এখন আসল গেমটা এখানে—বকুল সাহেব বা যেকোনো বাবা চাইলে জীবিত অবস্থায় মেয়েকে সম্পত্তি দান (হেবা) করে দিতে পারেন।
তবে দান মানে মুখে মুখে “এইটা তোর” বললেই হবে না!
নিয়মগুলো হলো—
১. স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে এটা দান।
২. মেয়ের নামে দখল বা হস্তান্তর করতে হবে।
৩. রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে যেন কেউ পরে এসে বলে না, “এই জমি তো আসলে আমাদের ছিল!”
আর মেয়ে যদি তখন অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, তাহলে দান করা যাবে, তবে দখল দিতে হবে মেয়ের সাবালক হবার পর।
উইল করে দেব? দাঁড়ান, একটা সীমা আছে!
অনেকে বলেন, “আমি উইল করে যাবো, মেয়েই পাবে সব।”
কিন্তু আইনে আছে—উইল করে এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেওয়া যাবে না, যদি না বাকি উত্তরাধিকারীরা রাজি থাকে।
মানে, মেয়েকে উইল করতে পারেন, কিন্তু পুরোটা নয়।
আর উইল কার্যকর হবে মৃত্যুর পর—তাই জীবিত অবস্থায় মেয়েকে “হেবা” করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি—মেয়েকে দিলেন, নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে!
অনেকেই হেবা করার পর মেয়ের কাছ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে রাখেন। এতে বাবা জীবিত অবস্থায় সম্পত্তি বিক্রি বা তদারকি করতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন—এ দলিলও রেজিস্ট্রি করতে হবে এবং মেয়ের (যদি সাবালক হয়) সম্মতি নিতে হবে।
চূড়ান্ত কথা
সোজা কথায়—ছেলে না থাকলে সম্পত্তি ভাগে মেয়েরা একদম পিছিয়ে নেই। মুসলিম আইনে মেয়ের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত।
তবে বাবারা যদি চান, মেয়ের মুখে হাসি থাকুক আর ভাইপোর মুখে হালকা ‘বিরক্তি’, তাহলে এখনই করুন—হেবা রেজিস্ট্রি করে দিন মেয়ের নামে!
মনে রাখবেন—“বাবার সম্পত্তি ভাগের নিয়ম ছেলে না থাকলে” জানলে মনও হালকা, সম্পত্তিও নিরাপদ!