বাংলাদেশে এই মৌসুমে ডেঙ্গু যেন একটা অদৃশ্য শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায়, বাড়িতে, এমনকি গুগল সার্চে মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন: "ডেঙ্গু মশা কামড়ালে কী করব?"। হ্যাঁ, সেই ছোট্ট এডিস মশা, যাকে আমরা সবাই 'ডেঙ্গু মশা' বলে ডাকি, তাদের কামড় নিয়ে চারদিকে আতঙ্ক। কিন্তু চিন্তা করবেন না, আমরা এখানে মজাদারভাবে, কিন্তু একদম সিরিয়াস তথ্য দিয়ে এই মশা-যুদ্ধের গাইড দিচ্ছি। ভাবুন, মশা তো শুধু রক্ত খেয়ে যায়, কিন্তু আমরা যদি স্মার্ট হই, তাহলে ডেঙ্গুকে দূরে রাখতে পারি। চলুন, এক এক করে সব প্রশ্নের উত্তর দেখি – হাসতে হাসতে শিখে নিন!
ডেঙ্গু মশা কামড়ালে কি ফুলে যায়? এবং কী করবেন?
আহা, সেই ক্লাসিক প্রশ্ন! ডেঙ্গু মশা কামড়ালে করণীয় কী? প্রথমে বলি, এডিস এজিপ্টি মশা কামড়ালে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কামড়ের জায়গাটা একটু ফুলে যায় এবং চুলকানি শুরু হয়। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে না – কেউ কেউ তো মশার কামড় টেরই পান না! কেন? কারণ এই ধূর্ত মশা কামড় দেওয়ার আগে একটা 'লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া' টাইপের তরল ছড়িয়ে দেয়, যাতে আপনি ব্যথা না পান। পরে অবশত্বা গেলে চুলকানি আর ফোলা আসে। কীটতত্ত্ববিদরা বলেন, ফোলাটা একটা মটর দানার মতো ছোট্ট হয়।
তাহলে ডেঙ্গু মশা কামড়ালে করণীয়? আতঙ্কিত হবেন না! হাত-পা ঢেকে রাখুন, মশারি ব্যবহার করুন (দিনেও!), দরজা-জানালায় নেট লাগান। মশা-তাড়ানো ক্রিম, স্প্রে বা প্যাচ ব্যবহার করুন। আর যদি রাতে আলো জ্বালান, সাবধান – এরা এখন দিন-রাত সবসময় অ্যাকটিভ। ভাবুন, মশা যেন একটা পার্টি-অ্যানিমেল, আলো দেখলেই চলে আসে!
ডেঙ্গু মশা দেখতে কেমন? চেনা যায় কীভাবে?
এখন আসুন চেহারার কথায়। ডেঙ্গু মশা দেখতে মাঝারি সাইজের, গায়ে-পায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ। খালি চোখে চেনা যায়! কিন্তু সাবধান, আরেকটা মশা (আর্মিগিয়ার) পেটে একই দাগ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু সেটা বড়। চেক করুন পায়ের দাগ – শুধু এডিসের পায়ে ডোরা থাকে। আর পুরুষ মশার শুঙ্গ রোমশ, স্ত্রীদের না। হাস্যকর লাগছে? ভাবুন, মশার ফ্যাশন স্টাইল চেক করে তাদের চিনুন!
মশা কামড়ালেই কি ডেঙ্গু হবে? সত্যি কী?
না না, প্রত্যেক কামড়ে ডেঙ্গু হয় না। শুধু যদি মশাটা ডেঙ্গু ভাইরাস বহন করে, তাহলে ঝুঁকি। একটা সুস্থ মশা ডেঙ্গু রোগীর রক্ত খেলে ভাইরাস পেয়ে যায়, তারপর অন্যকে কামড়ালে ছড়ায়। এরা তো একাধিক লোককে কামড়ায় – যেন একটা ভাইরাস-শেয়ারিং অ্যাপ! তাই প্রতিরোধই সেরা।
ডেঙ্গু মশা কামড়ালে করণীয়: কামড়ের পর কী করবেন?
কামড় হয়ে গেলে? যদি ভাইরাস চামড়ায় লেগে থাকে, ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন – ভাইরাস মরে যাবে। কিন্তু রক্তে মিশে গেলে কিছু করার নেই। তাই ফোকাস প্রতিরোধে: মশা-তাড়ানো জিনিস ব্যবহার করুন। হাস্যকরভাবে বললে, মশাকে 'নো এন্ট্রি' সাইন দেখান!
ডেঙ্গু মশা কোথায় থাকে আর ডিম পাড়ে?
এরা ছায়াযুক্ত শুকনো জায়গায় বিশ্রাম নেয়। ডিম পাড়ে যেকোনো জমা পানিতে – পরিষ্কার হোক বা নোংরা। টায়ার, বালতি, ফুলের টব, নারকেলের খোল – সব জায়গায়। ডিম থেকে লার্ভা, পিউপা, তারপর মশা। সমাধান? জমা পানি ফেলে দিন বা সাবান মেশান। ভাবুন, মশার 'বেবি নার্সারি' ধ্বংস করুন!
ডেঙ্গু জ্বর কতদিন থাকে? এবং লক্ষণ কী?
ক্লাসিকাল ডেঙ্গু ৫-৭ দিনে সেরে যায়, সর্বোচ্চ ১০ দিন। কিন্তু হেমোরেজিক টাইপে জটিলতা বাড়ে – প্লেটলেট কমে, অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লক্ষণ: জ্বর, শরীর ব্যথা, র্যাশ, বমি, দুর্বলতা, রক্তক্ষরণ। হাস্যকর? জ্বর এলে ভাববেন না "এটা তো সাধারণ ফ্লু", দ্রুত ডাক্তার দেখান!
ডেঙ্গু টেস্ট কী কী? কখন করবেন?
জ্বর হলে NS1 টেস্ট (প্রথম ৩-৫ দিনে)। পরে IgM/IgG। CBC দিয়ে প্লেটলেট চেক করুন। আশপাশে ডেঙ্গু থাকলে দেরি করবেন না।
ডেঙ্গু হলে কী খাবেন?
নরম খাবার, জুস, স্যুপ, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন। ভারসাম্য রাখুন – দিনে ১০টা ডাব খেয়ে 'ওভারহাইড্রেট' হবেন না! ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ডেঙ্গু কি ছোঁয়াচে? না কি?
না, ছোঁয়াচে নয় – শুধু মশার মাধ্যমে। রোগীকে স্পর্শ করুন, কোনো সমস্যা নেই।
ডেঙ্গু মশা কামড়ালে করণীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ? প্রতিরোধ! মশা-নিয়ন্ত্রণ করুন, সচেতন থাকুন। যদি লক্ষণ দেখেন, দ্রুত চিকিৎসা নিন। এই মৌসুমে মশাকে হারাতে চাইলে, হাসতে হাসতে স্মার্ট হোন। আরও তথ্য চাইলে, বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলুন। সুস্থ থাকুন!
