ভাবুন তো—রক্ত পরীক্ষা করতে গেছেন, নার্স হাতে সুচ নিয়েছেন, আর আপনি তখন ঘামছেন যেন ম্যারাথন দৌড় শেষ করেছেন! হৃৎপিণ্ড এমনভাবে ধুপধাপ করছে, যেন ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দিচ্ছে! যদি এমন দৃশ্য পরিচিত লাগে, তাহলে অভিনন্দন—আপনার আছে ট্রাইপানোফোবিয়া, মানে সুচের ভয়।
কিন্তু চিন্তা নেই, কারণ আজ আমরা নিয়ে এসেছি ৬টি সহজ কৌশল, যা রক্ত পরীক্ষার সময় সুচের ভয়কে ‘টিকটিকির ভয়’-এর মতো তুচ্ছ বানিয়ে দেবে।
১. জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি (CBT):
এটা শুনতে খুব বিজ্ঞ মনে হলেও, আসলে কাজটা সহজ—আপনি কেন সুচ দেখলেই গাছের মতো জমে যান, তা খুঁজে বের করা! একজন থেরাপিস্ট আপনাকে বোঝাতে সাহায্য করবেন যে, সুচ মানেই ব্যথা নয়, বরং জীবনরক্ষাকারী জিনিস। ভাবুন তো, ছোট্ট সুচ না হলে কত অসুখ অজানা রয়ে যেত!
২. মনোযোগ অন্যদিকে সরানো (Distraction):
রক্ত পরীক্ষা মানে যে নাটকীয় দৃশ্য বানাতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং গান শুনুন, মজার ভিডিও দেখুন, কিংবা মনে মনে ভাবুন—আজকের ইনজেকশন শেষে আমি এক কাপ চা দিয়ে নিজেকে ট্রিট দেব! আপনি ব্যস্ত থাকলে সুচ আপনার ‘মাইন্ড স্ক্রিনে’ ঢোকারই সুযোগ পাবে না।
৩. নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস:
যখন নার্স বলেন, “একটু রিল্যাক্স করুন”—তখনই সবচেয়ে বেশি টেনশন আসে, তাই না? তার বদলে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন, তারপর ছাড়ুন। মনে মনে বলুন, “আমি পারব… আমি এক সাহসী মানুষ!” এই ধীর শ্বাস আপনার হৃৎপিণ্ডকে শান্ত করবে, আর মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না।
৪. পেশি শক্ত করা (Applied Tension Technique):
এটা একদম সুপারহিরো টেকনিক। সুচ ঢোকার আগে ৩০ সেকেন্ডের জন্য হাত-পা শক্ত করুন, তারপর ছেড়ে দিন। এতে রক্তচাপ ঠিক থাকে এবং শরীর বলে—“ভয়? ওটা কী?” এই ছোট্ট ব্যায়াম আপনার সাহস বাড়াবে অনেকগুণ।
৫. আগে থেকেই প্রস্তুতি:
রাত জেগে সিরিজ দেখে সকালে রক্ত পরীক্ষা দিতে যাবেন না! পর্যাপ্ত ঘুম নিন, আর একটু পানি পান করুন। ক্লান্তি বা ডিহাইড্রেশন ভয় বাড়ায়, তাই শরীর ঠিক রাখুন, মনও ঠিক থাকবে।
৬. স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন:
সবশেষে, ভয়টা লুকিয়ে লাভ নেই। পরীক্ষার আগে সোজাসুজি বলুন—“আমার একটু সুচের ভয় আছে।” বিশ্বাস করুন, নার্সরা এই কথা দিনে অন্তত ২০ বার শোনেন! তারা আপনাকে ধীরে ধীরে, যত্ন নিয়ে ইনজেকশন দেবেন। কখন যে সুচ ঢুকে গেছে, বুঝতেই পারবেন না।
এখন থেকে সুচ দেখলেই পালিয়ে যাবেন না, বরং হেসে বলুন—“চলুন, শুরু করা যাক!”
