আপনার সন্তানের হাসিটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য, তাই না? কিন্তু যখন দেখেন আপনার শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে, হাত-পা শীতল, তখন বুক ধকধক করতে থাকে—“এটা কি ঠিক আছে?” চিন্তা নেই, আজ আমরা জানব শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে কি করনীয়, কেন এটা হয়, আর কিভাবে খুব সহজে শিশুকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন।
শিশুর স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত হওয়া উচিত
একজন সুস্থ শিশুর শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬.৫°C থেকে ৩৭.৫°C (অর্থাৎ প্রায় ৯৮.৬°F)। এই সীমার ভেতরে থাকলেই বুঝবেন শিশুটি একদম ঠিক আছে। কিন্তু তাপমাত্রা যদি ৩৫°C (৯৫°F) বা তার নিচে নেমে যায়, তখন সেটাকে বলা হয় হাইপোথার্মিয়া, যা শিশুর জন্য বেশ বিপজ্জনক হতে পারে।
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে কি করনীয়
১. শিশুকে উষ্ণ রাখুন
শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে প্রথম কাজ হলো তাকে উষ্ণ পরিবেশে রাখা। শিশুকে গরম জামা পরিয়ে দিন, কম্বল দিয়ে জড়িয়ে রাখুন, আর ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ করে দিন যেন বাতাস ঢুকতে না পারে।
২. ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করুন
শিশু যেখানে থাকে সেই ঘরটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু গরম রাখার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে রুম হিটার ব্যবহার করতে পারেন, তবে সরাসরি শিশুর মুখে বা শরীরে যেন গরম বাতাস না লাগে—এটা খুব জরুরি।
৩. ত্বকে ত্বকের সংস্পর্শে রাখুন
এটি খুবই কার্যকর একটি উপায়। শিশুকে আপনার বুকে রেখে কাপড়ে মুড়ে রাখুন—ত্বক থেকে ত্বকে যোগাযোগ শিশুর দেহে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনে এবং মানসিক প্রশান্তিও দেয়।
৪. উষ্ণ তরল দিন
যদি শিশুটি তরল খাবার খেতে পারে (যেমন দুধ বা উষ্ণ পানি), তবে তা দিন। এতে শরীরের ভেতর থেকে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। তবে জোর করে কিছুই খাওয়াবেন না, ধীরে ধীরে দিন।
৫. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি এই পদক্ষেপগুলোর পরও শিশুর তাপমাত্রা না বাড়ে, অথবা সে ক্লান্ত, অচেতন বা কান্নাহীন হয়ে যায়, অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। এটি গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।
নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা কত হলে জ্বর ধরা হয়
- ৩ মাসের কম বয়সী নবজাতক: ১০০.৪°F বা তার বেশি মানে জ্বর।
- ৩ থেকে ৬ মাস বয়সী শিশু: ১০২.২°F বা তার বেশি মানে জ্বরের লক্ষণ।
- তবে ১০৩°F তাপমাত্রা হলেও যদি শিশুটি স্বাভাবিক আচরণ করে, খায়-দায়, হাসে—তাহলে সেটা খুব চিন্তার নয়।
- তবুও যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় কেন
শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া মানেই কোনো না কোনো অস্বাভাবিকতা। কারণগুলো এক নজরে দেখে নিন—
- শীতল আবহাওয়া: দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা বাতাস বা পানিতে থাকা।
- পুষ্টিহীনতা: শরীরে যথেষ্ট খাবার না পেলে তাপ উৎপাদন কমে যায়।
- বয়স বা অসুস্থতা: বয়স্ক ও অসুস্থদের শরীর তাপ ধরে রাখতে পারে না।
- মানসিক চাপ বা নিদ্রাহীনতা: এগুলো মেটাবলিজম কমিয়ে দেয়, ফলে তাপমাত্রা নেমে যায়।
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার সহজ উপায়
শিশু বা বড়—সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য কিছু টিপসঃ
- শীতের সময়ে উষ্ণ পোশাক ব্যবহার করুন।
- গরম পানি দিয়ে হালকা গোসল করান।
- ঢিলাঢালা পোশাক পরান।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিশ্চিত করুন।
- মানসিক চাপ কমিয়ে রাখুন।
- পুষ্টিকর খাবার খান—বিশেষ করে দুধ, ডিম, শর্করা, চর্বি ও গরম স্যুপ।
শেষ কথা | শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে কি করনীয়
আপনার শিশুর সামান্য ঠান্ডা লাগলেও অবহেলা করবেন না। শিশুর শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন—উষ্ণ রাখুন, ঘরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করুন, ত্বক-থেকে-ত্বক যোগাযোগ করুন, উষ্ণ খাবার দিন, এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
একজন সচেতন অভিভাবকই পারেন তার সন্তানের সঠিক যত্ন নিতে। তাই মনে রাখবেন—সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নেওয়াই শিশুর সুস্থতার প্রথম পদক্ষেপ।
