জরায়ু নিচে নেমে গেলে ঘরোয়া চিকিৎসা: সমস্যা নয়, এখন এটা একেবারে সিরিয়াস বিষয়!
বাংলাদেশের অনেক নারীর একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে—রোগ মানেই গোপন মিশন!
যতদিন না হাঁটতে কষ্ট হয়, কেউ জানতেই পারবে না কী হয়েছে! আর ততদিনে, ছোটখাটো সমস্যা হয়ে যায় ‘বড়সড় ঝামেলা’। তার মধ্যেই এক দুষ্টু রোগের নাম—জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া। শুনতে যেন কোনো অ্যাকশন মুভির সিন, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা মোটেও মজার না। তবু চলুন, একটু হাসিঠাট্টার মেজাজে সিরিয়াস কথাগুলো জেনে নেই।
আসল দোষী কারা?
প্রথমেই জেনে নিন, আমাদের শরীরের ভেতর জরায়ু নামের ভদ্রমহিলাকে ধরে রাখে কিছু মাংসপেশি আর লিগামেন্ট—একদম নিরাপত্তারক্ষী দলের মতো।
কিন্তু যদি জন্মগতভাবে তাদের শক্তি কম হয়, তাহলে? হ্যাঁ, তখন জরায়ু ভাবতে পারে, “এই বাসায় আর থাকা যাচ্ছে না!” আর নিচের দিকে নেমে আসতে শুরু করে।
আরও কিছু কারণ আছে, যেগুলো শুনে মনে হবে, আহা, এই ভুলগুলো তো আমরা প্রায়ই করি—
- সন্তান প্রসবের সময় যদি মুখ পুরো না খুলেই বেশি চাপ দেন, তাহলে জরায়ু বলে, “দুঃখিত, আমি নামছি নিচে!”
- যদি ১২–১৬ ঘণ্টা ধরে প্রসবব্যথা চলতে থাকে, তখন জরায়ু প্রায় প্যাকআপের পথে।
- এক সন্তান নেওয়ার পর এক বছর না যেতেই আরেকজন এলে, জরায়ু ভাবে, “একটু রেস্ট দাও না!”
- বয়স বাড়লে, দীর্ঘদিন কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, বা প্রসব-পরবর্তী যত্নে অবহেলা করলে, জরায়ু নিচে নামার রিস্ক বেড়ে যায়।
- আর হ্যাঁ, ভারী জিনিস তোলার শখ থাকলে, সাবধান! জরায়ু এ কাজে মোটেই খুশি হয় না।
কীভাবে বুঝবেন যে জরায়ু নিচে নেমে গেছে?
ভাবুন তো, হঠাৎ তলপেটে এমন অস্বস্তি লাগছে যেন ভেতর থেকে কেউ দরজার দিকে হাঁটছে!
তা-ই যদি মনে হয়, বুঝবেন, ব্যাপারটা ‘নেমে যাচ্ছে’।
আরও কিছু সাইন আছে—
- কোমর ব্যথা,
- সহবাসে ব্যথা,
- প্রস্রাব বা পায়খানা অসম্পূর্ণ লাগা,
- সাদা বা লালচে স্রাব,
- আর সবচেয়ে ভয়ের বিষয়—মাসিকের পথে জরায়ু চোখে দেখা যায়!
তখন দেরি না করে ডাক্তার দেখানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
জরায়ু নিচে নেমে গেলে চিকিৎসা ও ঘরোয়া উপায়
চিকিৎসা বলতে শুধু ওষুধ নয়, ব্যায়ামই এখানে নায়ক!
বিশেষ করে কেগেল এক্সারসাইজ—এই ব্যায়ামে পেলভিক মাংসপেশি এমন শক্ত হয় যে জরায়ু বলে, “ঠিক আছে, আমি থাকব এখানেই।”
বয়স কম হলে ও ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে, ডাক্তাররা জরায়ুকে আগের জায়গায় প্রতিস্থাপন করেন।
আর বয়স ৫০ পেরিয়ে গেলে বা মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে অনেক সময় জরায়ু কেটে ফেলার পরামর্শ দেন।
তবে কিছু ঘরোয়া নিয়মও মেনে চললে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে—
- প্রসবের সময় অভিজ্ঞ ধাত্রী বা হাসপাতালে প্রসব করান।
- প্রসবের পর অন্তত ৬ মাস ভারী কিছু তুলবেন না।
- যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক হাঁটাচলা শুরু করুন।
- নিয়মিত ব্যায়াম করুন, বিশেষ করে পেলভিক মাংসপেশি শক্ত করার ব্যায়াম।
- দীর্ঘ কাশি বা কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে চিকিৎসা করান।
- এবং সবচেয়ে জরুরি—বারবার সন্তান নেওয়ার মধ্যে বিরতি দিন।
একেবারে শেষ কথা
জরায়ু নিচে নেমে গেলে ঘরোয়া চিকিৎসা মানে শুধু আদা-লেবুর পানি খাওয়া নয়, বরং নিজের শরীরকে সম্মান দেওয়া।
শরীরকে সময় দিন, ব্যায়াম করুন, আর সমস্যার কথা চেপে না রেখে ডাক্তারের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন।
কারণ, শরীরের খবর লুকিয়ে রাখলে শরীর কিন্তু চুপ করে থাকে না—একসময় সে নিজেই সব বলে দেয়, আর তখন হাসির জায়গায় কান্না আসে।
