অবিবাহিত মেয়েদের জরায়ু নিচে নেমে গেলে করণীয় – একবার পড়ে হাসো, কিন্তু জানতেও শেখো!

অবিবাহিত মেয়েদের জরায়ু নিচে নেমে গেলে করণীয় – একবার পড়ে হাসো, কিন্তু জানতেও শেখো!


শুনে হাসতে ইচ্ছে করতেই পারে—"জরায়ু নিচে নেমে গেছে!"—এ আবার কী! কিন্তু না, মজা মজাই থাকুক, জেনে রাখো এই সিরিয়াস ব্যাপারটার নাম জরায়ুর স্থানচ্যুতি বা Uterine Prolapse। মানে, জরায়ু তার স্বাভাবিক জায়গা থেকে নিচের দিকে নেমে আসে। অবিবাহিত হোক বা বিবাহিত—শরীরের নিয়ম কেউ ছাড় দেয় না! তবে চিন্তার কিছু নেই, আগেভাগে ধরা পড়লে চিকিৎসায় পুরোপুরি সেরে ওঠা যায়।

কেন অবিবাহিত মেয়েদের জরায়ু নিচে নেমে যায় 

  • জন্মগতভাবে যদি জরায়ুর মাংসপেশি দুর্বল হয়, তাহলে সে তো নিচে নামবেই!
  • শরীরে ওজন বেশি হলে পেটের চাপেও জরায়ু কষ্টে বলে, “আমায় একটু নিচে যেতে দাও।”
  • কারও কারও জরায়ুর মুখ লম্বা হয়, সেটাও একটা কারণ।
  • সন্তান প্রসবের সময় যদি বেশি চাপ দেওয়া হয়, বা প্রসব দীর্ঘ হয় (১২–১৬ ঘণ্টা!), তখনও বিপদ।
  • এক বছরের কম ব্যবধানে দুই সন্তান? জরায়ু তখনও বিশ্রাম নিতে পারেনি, ফল—স্থানচ্যুতি!
  • বয়স বাড়লে শরীরের কাঠামো যেমন বদলায়, তেমনি জরায়ু ধরে রাখার মাংসপেশিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • বড় শিশুর জন্ম, প্রসব পরবর্তী অযত্ন, অপুষ্টি—সবই দায়ী।
  • হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে বা মেনোপজে ইস্ট্রোজেন কমে গেলে
  • দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, কাশি বা ভারী জিনিস তোলা—এই তিনটি শত্রু একসঙ্গে থাকলে জরায়ুর আর রেহাই নেই!

অবিবাহিত মেয়েদের জরায়ু নিচে নেমে গেলে কি লক্ষণ দেখা যায় – 

  • মনে হবে যেন যোনিপথে কিছু বের হয়ে আসছে।
  • নিচে একটা টান বা ভারীভাব। হাঁটলে ব্যথা, শুলে শান্তি।
  • সহবাসের সময় বা কোমরে ব্যথা।
  • প্রস্রাব ঘন ঘন আসে, কিন্তু শেষে মনে হয় পুরোটা বের হলো না।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে কষ্ট বা বেগ থাকলেও পায়খানা না হওয়া।
  • সাদা স্রাব, রক্ত মেশানো স্রাব, এমনকি দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজও হতে পারে

অবিবাহিত মেয়েদের জরায়ু নিচে নেমে গেলে চিকিৎসা – সময়মতো ডাক্তারই আপনার হিরো

সমস্যা ধরা পড়লেই দেরি নয়! প্রথমেই চিকিৎসকের কাছে যান। প্রাথমিক অবস্থায় ব্যায়াম ও ওষুধেই নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু দেরি করলে অস্ত্রোপচারও লাগতে পারে। না করালে দেখা দিতে পারে ভয়ঙ্কর দুই অবস্থা—
অ্যান্টেরিয়র প্রলাপসপোস্টেরিয়র ভ্যাজাইনাল প্রলাপস—যেখানে জরায়ু আর “উপরে ওঠা” ভুলেই যায়!

অবিবাহিত মেয়েদের জন্য করণীয় – হালকা হাসি, ভারী জ্ঞান

  • স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সঠিক খাবার হলো প্রথম সিক্রেট।
  • প্রতিদিন ব্যায়াম করুন, কিন্তু ভারী কিছু তুলবেন না। যদি তুলতেই হয়, কোমরে নয়—পায়ে চাপ দিন।
  • যাদের এখনো সন্তান হয়নি, তারাও যেন জানে—প্রসবের সময় অভিজ্ঞ ধাত্রী বা হাসপাতালে প্রসব করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
  • প্রসবের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা (যখন সময় আসবে!) অভ্যাস করুন।
  • দীর্ঘ কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবের সমস্যা থাকলে আর টেনে লাভ নেই—ডাক্তার দেখান।
  • জন্মনিয়ন্ত্রণে সচেতন থাকুন এবং সন্তান জন্মের ব্যবধান অন্তত দুই বছর রাখুন।
  • ফাইবারযুক্ত খাবার খান—সবজি, ফলমূল, পানি বেশি নিন।
  • ধূমপান ত্যাগ করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

শেষ কথা

জরায়ু কিন্তু কোনো “গল্পের নায়িকা” নয়, যে সব সহ্য করেও মুখ বন্ধ রাখবে! শরীর যখন সংকেত দেয়, তখন সেটাকে গুরুত্ব দিন। হাসতে হাসতে নিজের যত্ন নিন, কারণ আজ একটু সচেতনতা আপনাকে আগামীকাল অস্ত্রোপচার থেকে বাঁচাতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post