বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে একটা বড় ধরনের 'পার্টি' শুরু হতে চলেছে! কল্পনা করুন, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার, ল্যাপটপে বসে ইউরোপের ক্লায়েন্টের কাজ শেষ করে পেমেন্টের জন্য অপেক্ষা করছেন—কিন্তু এবার আর 'ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন' বা 'ব্যাংক ট্রান্সফার' এর ঝামেলায় পড়তে হবে না। কারণ, শীঘ্রই দেশে আসছে পেপ্যাল, যা আন্তর্জাতিক লেনদেনকে করে তুলবে 'কেকওয়াক'। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নিজেই এই সুখবর দিয়েছেন, আর তা শুনে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে অনলাইন ব্যবসায়ীরা যেন ডিজিটাল নাচ শুরু করে দিয়েছেন!
গভর্নরের 'সারপ্রাইজ' ঘোষণা: পেপ্যালের আগমন কেন এতটা রোমাঞ্চকর?
একটা অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে—হ্যাঁ, কৃষি-সম্পর্কিত ইভেন্টে!—গভর্নর মনসুর সবাইকে চমকে দিয়ে বললেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী। এটা যেন সেই মজার সিনেমার দৃশ্য, যেখানে হিরো অপ্রত্যাশিতভাবে উদ্ধারকর্তা হয়ে আসে। বর্তমানে, ছোট উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক রপ্তানির জন্য 'এলসি' খোলার ঝক্কিতে পড়েন, যা মনে হয় যেন মাউন্ট এভারেস্ট চড়ার মতো কঠিন। কিন্তু পেপ্যাল চালু হলে? ওয়েল, আপনি সহজেই আমেরিকা বা ইউরোপে পণ্য পাঠিয়ে দ্রুত পেমেন্ট পাবেন—আর সেই টাকা দেশে আসবে 'জিপিএস' এর মতো সোজা পথে, কোনো ঘুরপথ ছাড়া।
ফ্রিল্যান্সারদের তো আরও বড় স্বস্তি! এখন অনেকে বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পারিশ্রমিক আনতে গিয়ে 'বিড়ম্বনা'র মুখোমুখি হন—কখনো টাকা আটকে যায়, কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়। গভর্নরের কথায়, পেপ্যাল এসে এই 'ড্রামা' শেষ করবে। কল্পনা করুন, আপনার ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ শেষ হলো, ক্লিক করলেন—আর পেমেন্ট চলে এলো আপনার অ্যাকাউন্টে। এটা যেন সেই জাদুর ল্যাম্প, যা আপনার 'ডলার-ড্রিম'কে সত্যি করে তুলবে!
পেপ্যাল কী এমন জিনিস যে সবাই এত উত্তেজিত?
যদি আপনি এখনও পেপ্যালকে 'অচেনা মামা' ভাবেন, তাহলে বলি: এটা একটা গ্লোবাল ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, যা অনলাইনে টাকা পাঠানো-গ্রহণ, বিল পে করা বা আন্তর্জাতিক শপিংকে করে তুলেছে 'বাটারফ্লাই' এর মতো সহজ। বিশ্বের ২০০-এর বেশি দেশে এটা ব্যবহার হয়, আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য রয়েছে সুরক্ষা এবং রিফান্ডের অপশন। মজার ব্যাপার, এটা আপনার ব্যাংক বা কার্ডের সাথে লিঙ্ক হয়ে থাকে, কিন্তু লেনদেন হয় 'সুপারহিরো' লেভেলের নিরাপত্তায়। বাংলাদেশে এটা আসলে ফ্রিল্যান্সিং আর অনলাইন ব্যবসা পাবে একটা 'বুস্টার রকেট'!
নগদ লেনদেনের 'ভিলেন' দিন শেষ: ডিজিটালের যুগ আসছে
গভর্নরের বক্তব্যে আরেকটা হাস্যকর কিন্তু সিরিয়াস পয়েন্ট: নগদ টাকার লেনদেন যেন দুর্নীতির 'সুপারভিলেন'! তিনি বললেন, যেখানে দুর্নীতি, সেখানে নগদ। আর টাকা ছাপানো-ব্যবস্থাপনায় বছরে খরচ হয় ২০ হাজার কোটি টাকা—যা যেন একটা বড় 'বিল' যা আমরা সবাই পে করছি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা? ধাপে ধাপে নগদ কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো। পেপ্যাল এখানে ফিট হয় পারফেক্টলি, কারণ এটা নগদের 'অল্টারনেটিভ' হয়ে উঠবে, আর দুর্নীতির 'প্লট' ভেঙে দেবে।
কৃষি খাতের 'গ্রোথ হ্যাক': ঋণ বাড়ানোর আহ্বান
অনুষ্ঠানটা অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ডের ছিল, তাই গভর্নর কৃষির কথাও তুললেন। বর্তমানে মোট ঋণের মাত্র ২% কৃষিতে যায়—যা যেন একটা ছোট 'পকেট মানি'। তিনি আহ্বান জানালেন এটা ১০%-এ নেওয়ার জন্য। এছাড়া, এসএমই ঋণের জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড আছে, কিন্তু ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা কম থাকায় তা ঠিকমতো বিতরণ হয় না। আর খাদ্য উৎপাদনের সাফল্য? ১৯৭১-এ ১ কোটি ৩০ লাখ টন থেকে এখন ৪ কোটি টন—জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও উৎপাদন তিনগুণ! এটা যেন কৃষকদের 'সুপারহিরো' স্টোরি, যা আমাদের গর্বিত করে।
শেষ কথা: পেপ্যালের আগমন—একটা নতুন অধ্যায়
শীঘ্রই দেশে আসছে পেপ্যাল, আর এটা শুধু একটা পেমেন্ট গেটওয়ে নয়—এটা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির 'গেম চেঞ্জার'। ফ্রিল্যান্সাররা হাসবেন, উদ্যোক্তারা লাভ করবেন, আর সবাই মিলে নগদের 'ড্রামা' থেকে মুক্তি পাবেন। অনুষ্ঠানে ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে কৃষিতে অবদানের জন্য—যা মনে করিয়ে দেয়, আমাদের অর্থনীতি শুধু ডিজিটাল নয়, কৃষি-ভিত্তিকও। তাই, চোখ রাখুন আপডেটে, কারণ এই 'পেপ্যাল পার্টি' শুরু হলে আপনিও যোগ দিতে চাইবেন!
