আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় চকচকে বিজ্ঞাপন দেখলে মনে হয়, এই প্রোডাক্টটি কিনলে তো জীবনটা হবে বলিউডের হিরোইনের মতো! কিন্তু বাস্তবে? সেই সুন্দর ত্বকের আশায় কেনা প্রসাধনীগুলো উল্টো আপনার শরীরের হরমোনগুলোকে পার্টিতে নেমন্তন্ন না করে ঝগড়া লাগিয়ে দিতে পারে। 'এন্ডোক্রিন সোসাইটি'র এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রূপচর্চার ভুলে নষ্ট হতে পারে হরমোনের ভারসাম্য – আর এটা কোনো কৌতুক নয়, বরং একটা গুরুতর সতর্কবাণী। চলুন, হাস্যরস মিশিয়ে জেনে নিই কোন কোন ভুলে আপনার হরমোনগুলো 'অফ ট্র্যাক' হয়ে যেতে পারে।
চড়া গন্ধের পারফিউম: সুগন্ধ নয়, হরমোনের শত্রু
কল্পনা করুন, আপনি পারফিউম স্প্রে করে বেরিয়ে পড়েছেন, আর সবাই বলছে "ওয়াও, কী সুন্দর গন্ধ!" কিন্তু ভিতরে কী ঘটছে? সেই চড়া সুগন্ধিযুক্ত পারফিউমে লুকিয়ে থাকা থ্যালেটস নামের রাসায়নিকটা আপনার এন্ডোক্রিন গ্রন্থিকে 'স্লো ডাউন' করে দিচ্ছে। গবেষণা বলছে, নিয়মিত ব্যবহারে নারীদের ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন এবং থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে? মুড সুইংস থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্যা। পরামর্শ? হালকা, ন্যাচারাল সুগন্ধি বেছে নিন – অন্তত হরমোনগুলোকে শান্তি দিন!
সানস্ক্রিনের ফাঁদ: রোদ থেকে বাঁচিয়ে হরমোনকে বিপদে ফেলে?
গরমের দিনে সানস্ক্রিন না লাগালে ত্বক পুড়ে যায়, কিন্তু উচ্চ এসপিএফের সানস্ক্রিনে অক্সিবেঞ্জোনের মতো উপাদান থাকলে কী হবে? এটা রোদ থেকে সুরক্ষা দেয় ঠিকই, কিন্তু ইস্ট্রোজেনের উৎপাদনকে ব্যাহত করে। ফলে শরীরের জৈবিক রিদম বিপর্যস্ত। মজার কথা, আপনি ভাবছেন "আমি তো সানস্ক্রিন লাগিয়ে সুপারহিরো হয়ে গেলাম!" কিন্তু হরমোনগুলো বলছে "নাহ, আমরা তো হিরোইনের ভিলেন হয়ে গেলাম!" সমাধান? লেবেল চেক করুন – অক্সিবেঞ্জোন-মুক্ত প্রোডাক্ট বেছে নিন।
অতিরিক্ত স্ক্রাবিং: ত্বকের সাথে হরমোনের যুদ্ধ
প্রতিদিন স্ক্রাবার দিয়ে মুখ ঘষতে ঘষতে ভাবছেন, ত্বক হবে চকচকে? কিন্তু এতে ত্বকের প্রতিরক্ষা স্তর ক্ষয় হয়, প্রদাহ বাড়ে, আর কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ ছুটে যায়। কর্টিসল বাড়লে অন্য হরমোনগুলোর সমন্বয় নষ্ট – যেন একটা পার্টিতে একজন অতি উৎসাহী গেস্ট সবাইকে বিব্রত করে দিচ্ছে! টিপ: সপ্তাহে দু-তিনবার স্ক্রাবিং যথেষ্ট। ত্বককে বিশ্রাম দিন, হরমোনগুলোকে ধন্যবাদ দেবে।
সিন্থেটিক রেটিনয়েড: যৌবনের ছাপ, কিন্তু হরমোনের ক্ষতি?
রেটিনল-সমৃদ্ধ ক্রিম ব্যবহার করে যৌবন ধরে রাখার স্বপ্ন দেখছেন? ভালো কথা, কিন্তু অতিরিক্ত সিন্থেটিক রেটিনয়েড হরমোন ক্ষরণে ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় তো একদম নো-নো! কল্পনা করুন, আপনি বলছেন "আমি তো অ্যান্টি-এজিং হিরো!" আর হরমোনগুলো বলছে "আমরা তো বুড়িয়ে গেলাম!" সতর্কতা: ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করুন, অতিরিক্ত নয়।
অ্যান্টি-এজিং প্রোডাক্ট: ধাতুর ফাঁদে পড়ে যাবেন না!
কিছু অ্যান্টি-এজিং ক্রিম বা মেকআপ ধাতব পাত্রে রাখা হয়, যাতে আর্সেনিক বা ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর উপাদান মিশে যেতে পারে। এগুলো সরাসরি থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। মজার কথা, আপনি ভাবছেন "এই ক্রিম লাগালে আমি ২০ বছর কম দেখাব!" কিন্তু হরমোনগুলো বলছে "আমরা তো ২০ বছর বুড়িয়ে গেলাম!" পরামর্শ: ন্যাচারাল, ধাতু-মুক্ত প্রোডাক্ট চয়ন করুন।
এসেনশিয়াল অয়েল: সুন্দর গন্ধ, কিন্তু সতর্কতা জরুরি
ল্যাভেন্ডার বা টি ট্রি অয়েলের মতো এসেনশিয়াল অয়েল ঘরোয়া রূপচর্চায় জনপ্রিয়, কিন্তু ভুল অনুপাতে ব্যবহার করলে ইস্ট্রোজেন বা থাইরয়েড হরমোনের গোলমাল হয়। সরাসরি লাগালে তো বিপদ! যেন একটা সুন্দর গান শুনতে গিয়ে স্পিকার ফেটে যায়। টিপ: সবসময় ক্যারিয়ার অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করুন, আর মাত্রা ঠিক রাখুন।
রূপচর্চা করুন, কিন্তু স্মার্টলি! প্রোডাক্ট কেনার আগে লেবেল পড়ুন, ন্যাচারাল উপাদান বেছে নিন এবং ডাক্তারের সাথে কথা বলুন। এতে ত্বক সুন্দর হবে, হরমোনগুলোও খুশি থাকবে। মনে রাখবেন, সৌন্দর্যের পথে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে সবই বৃথা। হাসুন, সতর্ক হোন, আর সুস্থ থাকুন!
