কল্পনা করুন, আপনি একটা সাইকেল নিয়ে পৃথিবীর নিরক্ষরেখা বরাবর ঘুরতে বেরিয়েছেন। কতদিন লাগবে পুরোটা ঘুরে আসতে? উত্তরটা শুনলে হয়তো হাসবেন – প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার! হ্যাঁ, পৃথিবীর নিরক্ষীয় পরিধি ঠিক এতটাই। যদি দিনরাত না থেমে প্যাডেল মারেন (যা অসম্ভব, কারণ সমুদ্র পার হওয়ার জন্য সাইকেলে ডানা লাগাতে হবে), তাহলেও কয়েক মাস লেগে যাবে। কিন্তু এই সংখ্যাটা শুধু একটা নম্বর নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর একটা মজার "ফ্যাশন স্টেটমেন্ট"!
পৃথিবী কেন পুরোপুরি গোল নয় – একটা কমলালেবুর গল্প
আমরা সবাই জানি, পৃথিবী গোলাকার। কিন্তু আসলে এটা একদম নিখুঁত গোলক নয়, বরং একটা অবলেট স্ফিরয়েড – অর্থাৎ মেরুতে সামান্য চ্যাপটা আর নিরক্ষরেখায় একটু ফোলা। কেন? কারণ পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরছে প্রচণ্ড গতিতে – নিরক্ষরেখায় ঘণ্টায় প্রায় ১,৬৭০ কিলোমিটার! এই ঘূর্ণনের ফলে কেন্দ্রাতিগ বল কাজ করে, যেন পৃথিবী বলছে, "আমার কোমরটা একটু বাড়তি রাখি, দেখতে ভালো লাগবে!" ফলে নিরক্ষীয় অংশটা ফুলে ওঠে, আর মেরুগুলো চ্যাপটা হয়ে যায়।
তুলনা করলে:
- নিরক্ষীয় পরিধি: প্রায় ৪০,০৭৫ কিলোমিটার।
- মেরু পরিধি (উত্তর-দক্ষিণ মেরু দিয়ে): প্রায় ৪০,০০৮ কিলোমিটার।
অর্থাৎ, নিরক্ষরেখা বরাবর ঘুরলে আপনাকে প্রায় ৬৭ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হবে। পৃথিবী যেন বলছে, "মেরুতে গেলে শর্টকাট আছে, কিন্তু নিরক্ষরেখায় ফুল এনজয় করো!"
ইতিহাসের একটা হাসির গল্প: এরাটোস্থেনিসের জাদু
প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদ এরাটোস্থেনিস খ্রিস্টপূর্ব ২৪০ সালের দিকে পৃথিবীর পরিধি মেপেছিলেন – শুধু দুটো শহরের মধ্যে সূর্যের ছায়া দেখে! তার হিসাব ছিল আধুনিক মানের খুব কাছাকাছি। কল্পনা করুন, স্যাটেলাইট ছাড়া, জিপিএস ছাড়া এত নিখুঁত হিসাব! যদি তিনি আজ বেঁচে থাকতেন, হয়তো বলতেন, "দেখো, আমি তো বলেইছিলাম পৃথিবী গোল – ফ্ল্যাট আর্থওয়ালারা এখনো ঝগড়া করছে!"
এই পরিধির গুরুত্ব – কেন এটা জানা দরকার?
এটা শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়, বাস্তব জীবনে অনেক কাজে লাগে:
- মানচিত্র ও নেভিগেশন: সঠিক ম্যাপ বানাতে এই মাপ ছাড়া চলবে না। বিমান বা জাহাজের রুট নির্ধারণে এটাই ভিত্তি।
- মহাকাশ বিজ্ঞান: স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে – এই ফোলা আকৃতি তাদের কক্ষপথকে প্রভাবিত করে।
- সময়ের হিসাব: পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় একবার ঘুরে, আর এই পরিধির সাথে মিলে আমরা টাইম জোন পাই।
- জিপিএসের জাদু: আজকের জিপিএস এই নিখুঁত মাপ ব্যবহার করে আমাদের লোকেশন বলে দেয়।
শেষ কথা: পৃথিবীটা সত্যিই বিশাল (এবং একটু দুষ্টু!)
৪০,০৭৫ কিলোমিটারের এই নিরক্ষীয় পরিধি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের গ্রহটা কতটা বিশাল, কতটা গতিশীল আর কতটা অনন্য। এটা শুধু একটা সংখ্যা নয় – এর মধ্যে লুকিয়ে আছে ঘূর্ণনের খেলা, মাধ্যাকর্ষণের টান আর মহাবিশ্বের একটা ছোট্ট অংশের গল্প। পরের বার যখন গুগল ম্যাপে কোথাও যাবেন, একবার ভাববেন – এই পথগুলো সবই এই বিশাল পরিধির উপর দিয়ে!
যদি আরও মজার তথ্য চান, কমেন্ট করুন। পৃথিবী ঘুরছে, আমরাও ঘুরি!
