জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন? ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর জার্নি!

জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন?


ইতিহাসের বই খুললেই আমাদের অনেকের হাই উঠতে শুরু করে। সাল, তারিখ, যুদ্ধ, আর ক্ষমতার পালাবদল—সব মিলিয়ে মনে হয় যেন মাথার ভেতর জ্যাম লেগে গেছে! কিন্তু বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কোনো থ্রিলার মুভির চেয়ে কম নয়। বিশেষ করে যখন প্রশ্ন আসে—জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন? তখন উত্তরটা এক কথায় দেওয়া অনেকটা বিরিয়ানির চাল গোনার মতো কঠিন। কারণ, তিনি হুট করে একদিন সকালে উঠে চেয়ারে বসে পড়েননি; এর পেছনে ছিল এক বিশাল নাটকীয় প্রেক্ষাপট।

আজ আমরা সেই ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে, একটু হাসিখুশি মেজাজে জানার চেষ্টা করব শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষমতার মসনদে আরোহণের আসল কাহিনী। খাতা-কলম বের করার দরকার নেই, শুধু মন দিয়ে পড়ুন।

জিয়াউর রহমান মূলত দুটি ধাপে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন: ১. ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর: সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি কার্যত ক্ষমতার চাবিকাঠি হাতে পান। ২. ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল: তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

ব্যাস! পরীক্ষার খাতায় বা কুইজ প্রতিযোগিতায় এই দুটি তারিখ মনে রাখলেই কেল্লাফতে। কিন্তু আপনি যদি আসল ‘মজা’ বা ঘটনার পেছনের ঘটনা জানতে চান, তবে নিচের অংশটুকু মিস করবেন না।

১৯৭৫ সাল: বাংলাদেশের রাজনীতির ‘গেম অফ থ্রোনস’

১৯৭৫ সালটা বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য ছিল একটা রোলার-কোস্টার রাইড। সকালে এক খবর তো বিকেলে আরেক খবর! ১৫ই আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতায় এলেন। কিন্তু নাটক তখনও বাকি ছিল।

নভেম্বরের ৩ তারিখে খালেদ মোশাররফ পাল্টা ক্যু (Coup) করলেন। তখন জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করা হলো। ভাবুন তো অবস্থাটা! যিনি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান, তাকেই কিনা নিজের বাসায় বন্দী থাকতে হচ্ছে। টেলিফোন লাইন কাটা, বাইরে কড়া পাহারা। জিয়াউর রহমান তখন হয়তো ভাবছিলেন, “দেশটা কোন দিকে যাচ্ছে?”

কিন্তু সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের মতো দৃশ্যপট বদলে গেল ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে। সাধারণ সিপাহীরা বিদ্রোহ করে বসল। তাদের একটাই দাবি—জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

৭ই নভেম্বর: ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান

১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ভোরবেলা। ঢাকার রাজপথ তখন স্লোগানে মুখর— “সিপাহী-জনতা ভাই ভাই, জিয়ার মুক্তি চাই!”

বন্দী দশা থেকে মুক্ত হয়ে জিয়াউর রহমান যখন বেরিয়ে এলেন, তখন তিনি আর শুধু একজন ‘মেজর জেনারেল’ নন, তিনি তখন পরিস্থিতির প্রয়োজনে দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি। যদিও তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, কিন্তু সবাই জানত আসল ‘পাওয়ার হাউস’ বা ক্ষমতার চাবিকাঠি কার পকেটে।

এই দিনেই তিনি উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাই যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করে, জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন (পরোক্ষভাবে), তবে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের কথাই বলতে হবে। কারণ, এখান থেকেই তার ‘লিজেন্ড’ হয়ে ওঠার শুরু।


১৯৭৭ সাল: ‘মেজর’ থেকে ‘প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার গল্প

৭৫-এর পর থেকে জিয়াউর রহমান দেশের আইনশৃঙ্খলা আর সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে মন দিলেন। তিনি ছিলেন অনেকটা সেই কঠোর প্রধান শিক্ষকের মতো, যিনি ক্লাসে ঢোকার সাথে সাথে সব ছাত্র শান্ত হয়ে যায়। তিনি বুঝলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু বন্দুকের নল দিয়ে হবে না, রাজনীতির মাঠে নামতে হবে।

দিনটি ছিল ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল। অসুস্থতার কারণে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েম পদত্যাগ করলেন। আর তখনই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন।

অনেকে ভাবেন, তিনি বুঝি জোর করে চেয়ারে বসেছিলেন। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেই সময়ের টালমাটাল পরিস্থিতিতে শক্ত হাতে হাল ধরার মতো একজন নাবিকের খুব দরকার ছিল। আর জিয়াউর রহমান সেই নাবিকের ভূমিকাটাই পালন করেছিলেন।


ক্ষমতায় এসে তিনি কী করলেন? (এক নজরে)

ক্ষমতায় বসার পর জিয়াউর রহমান কিন্তু হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেননি। তিনি এমন সব কাজ শুরু করলেন যা দেখে মনে হতো তার দিনের দৈর্ঘ্য ২৪ ঘণ্টার চেয়েও বেশি!

১. খাল খনন কর্মসূচি

টিভিতে বা খবরের কাগজে হয়তো দেখেছেন, জিয়াউর রহমান কোদাল হাতে নিজেই মাটি কাটছেন। এটি কোনো ফটোসেশন ছিল না। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে পানির ব্যবস্থা করতে হবে। তাই তিনি শুরু করলেন খাল খনন বিপ্লব। তার দেখাদেখি আমলা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই কোদাল হাতে নেমে পড়ল।

২. ১৯ দফা কর্মসূচি

দেশকে উন্নয়নের ট্র্যাকে তোলার জন্য তিনি দিলেন ১৯ দফা কর্মসূচি। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন—কি ছিল না সেখানে!

৩. সার্ক (SAARC) গঠন

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একে অপরের সাথে ঝগড়া না করে যাতে মিলেমিশে থাকে, সেই জন্য ‘সার্ক’ গঠনের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনিই। তার এই উদ্যোগ আজও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে এক মাইলফলক।

৪. বহুদলীয় গণতন্ত্র

একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে বের করে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করেন। বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৭৮ সালে। অর্থাৎ, তিনি শুধু খেলোয়াড় ছিলেন না, নিজের টিমও গঠন করেছিলেন।

কেন মানুষ এখনও জানতে চায় তিনি কবে ক্ষমতায় আসেন?

গুগলে “জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন” লিখে সার্চ করার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। কেউ ইতিহাসের ছাত্র, কেউ বিসিএস পরীক্ষার্থী, আবার কেউ হয়তো চায়ের দোকানের আড্ডায় তর্কে জেতার জন্য সঠিক তারিখটা খুঁজছেন।

জিয়াউর রহমানের শাসনামল নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে বীজ বপন করেছিলেন, তা আজও মহীরুহের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তার চশমা পরা সেই গাম্ভীর্যপূর্ণ লুক আর দ্রুত হাঁটার স্টাইল—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।


সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ (TL;DR)

যারা পুরো আর্টিকেল পড়ার সময় পাননি, তাদের জন্য কুইক রিক্যাপ:

  • প্রশ্ন: জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন?

  • উত্তর (প্রথম ধাপ): ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ (উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে)।

  • উত্তর (চূড়ান্ত ধাপ): ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ (রাষ্ট্রপতি হিসেবে)।

  • দল: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

  • বিশেষ অবদান: বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন ও খাল খনন কর্মসূচি।

শেষ কথা

ইতিহাসের পাতায় জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম। জিয়াউর রহমান কত সালে ক্ষমতায় আসেন—এই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি সাল বা তারিখ নয়, এটি একটি ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ের গল্প। তিনি দেখিয়েছিলেন কীভাবে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও ঠান্ডা মাথায় দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া যায়।

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার ইতিহাসের জ্ঞান ঝালাই হয়ে গেছে এবং মুখে একটু হলেও হাসি ফুটেছে। গুগলের রোবট আর আপনার মস্তিষ্ক—উভয়কেই খুশি করতে আমরা কোনো কসুর করিনি!

যদি লেখাটি ভালো লাগে, তবে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর হ্যাঁ, ইতিহাসের অন্য কোনো চরিত্র নিয়ে এমন রসালো আর্টিকেল চাইলে কমেন্ট করে জানান। আমরা আছি আপনার অপেক্ষায়!

(বি:দ্র: আর্টিকেলটি ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে এবং এসইও অপটিমাইজেশনের কথা মাথায় রেখে লেখা হয়েছে।)

Post a Comment

Previous Post Next Post