আমরা যখন রাতে আকাশের দিকে তাকাই, মিটিমিটি জ্বলা ছোট ছোট বিন্দুগুলোকে দেখে মনে হয় যেন কেউ সর্ষে দানা ছিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ছোট ছোট বিন্দুরূপী তারা পৃথিবী থেকে কত গুণ বড়? আমাদের এই আদরের নীল গ্রহটি মহাকাশের হিসেবে আসলে একটি বালির কণার চেয়েও ছোট!
আজকের এই ব্লগে আমরা মহাকাশের সেইসব বিশালাকার নক্ষত্রদের সম্পর্কে জানবো এবং হাসতে হাসতে উপলব্ধি করবো যে—আমরা আসলে কতটা ছোট!
১. আমাদের ক্যাপ্টেন: সূর্য (The Boss)
শুরু করা যাক আমাদের ঘরের কাছের নক্ষত্র 'সূর্য' দিয়ে। একে দেখে আমাদের মনে হয় থালার মতো গোল। কিন্তু শুনলে অবাক হবেন, সূর্যের ভেতরে প্রায় ১৩ লক্ষ পৃথিবী অনায়াসেই ঢুকিয়ে রাখা যাবে!
সহজ ভাষায় ভাবুন, আপনার কাছে যদি একটা বড় বাস্কেটবল থাকে, তবে পৃথিবী হবে তার পাশে একটা ছোট্ট মটরশুঁটি। সূর্যের ব্যাস পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১০৯ গুণ বড়। তার মানে সূর্য যদি একটা ফুটবল মাঠ হয়, পৃথিবী সেখানে ছোট্ট একটা মার্বেল ছাড়া আর কিছুই নয়।
২. বড় ভাই বৃহস্পতি: গ্রহদের রাজা
অনেকে মনে করেন বৃহস্পতিও কি নক্ষত্র? না, এটি একটি গ্রহ। তবে এর বিশালতা নিয়ে কথা না বললে অবিচার হবে। আয়তনের দিক থেকে বৃহস্পতি আমাদের পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ১,৩০০ গুণ বড়। আপনি যদি পৃথিবীর সমান ১৩০০টি মার্বেল একটি জারের মধ্যে রাখেন, তবেই সেটা বৃহস্পতির সমান হবে। যদিও এটি সূর্যের কাছে নস্যি, কিন্তু আমাদের সাপেক্ষে সে বিশাল এক 'দানব'।
৩. ইউওয়াই স্কুটি (UY Scuti): মহাকাশের আসল 'ডন'
এখন যদি বলি সূর্যই মহাকাশের সবচেয়ে বড় তারা, তবে ভুল হবে। সূর্য তো কেবল শুরু! মহাকাশে এমন কিছু নক্ষত্র আছে যাদের সামনে সূর্য নিজেই বালির কণা। এমনই এক নক্ষত্রের নাম ইউওয়াই স্কুটি (UY Scuti)।
জানলে মাথা ঘুরে যাবে, এটি আয়তনে সূর্যের চেয়ে প্রায় ৫০০ কোটি গুণ বড়! কল্পনা করতে পারছেন? এটি এত বড় যে, একটি আলো যদি এই তারার একপাশ থেকে অন্যপাশে যেতে চায়, তবে তার কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যাবে (যেখানে সূর্যের চারপাশে যেতে আলোর মাত্র ১৪ সেকেন্ড লাগে)।
৪. কেন তারাগুলোকে এত ছোট দেখায়?
প্রশ্ন আসতেই পারে—তারা পৃথিবী থেকে কত গুণ বড় সেটা তো বুঝলাম, কিন্তু তাদের দেখতে এত ক্ষুদ্র লাগে কেন? উত্তরটি খুব সহজ: দূরত্ব। মহাকাশ এতটাই বিশাল যে, নিকটতম নক্ষত্রটিও আমাদের থেকে কয়েক লক্ষ কোটি কিলোমিটার দূরে। যেমন— প্রক্সিমা সেন্টাউরি। এটি পৃথিবী থেকে ৪ আলোকবর্ষ দূরে। এই বিশাল দূরত্বের কারণেই আকাশের ওই বিশালাকার 'দানবদের' আমাদের কাছে পিটপিটে প্রদীপের মতো মনে হয়।
৫. মহাকাশের সাপেক্ষে আমরা কোথায়?
যদি মহাকাশকে একটি বিশাল সমুদ্র ধরি, তবে পৃথিবী হলো সেই সমুদ্রের এক ফোঁটা পানি। সূর্য হলো সেই ফোঁটার ভেতরে থাকা একটি অণু। আর 'তারা' বা নক্ষত্ররা হলো একেকটি বিশাল দ্বীপ।
আমরা নিজেদের অনেক বড় মনে করলেও মহাজাগতিক স্কেলে আমাদের কোনো অস্তিত্বই প্রায় নেই। এটি ভাবলে যেমন অবাক লাগে, তেমনি একটু হাসিও পায়— তাই না? সামান্য এই পৃথিবীতে আমাদের কত অহংকার, অথচ মহাকাশে আমরা কেবল একটি 'নীল বিন্দু'!
শেষ কথা
আশা করি বুঝতে পেরেছেন তারা পৃথিবী থেকে কত গুণ বড়। মহাকাশের এই রহস্যময় জগত যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বিস্ময়কর। পরবর্তীতে যখন রাতের আকাশে তাকাবেন, মনে রাখবেন—ওই ছোট্ট বিন্দুটি আসলে কয়েক কোটি পৃথিবীকে পেটে ভরে ফেলার ক্ষমতা রাখে!
মহাকাশ সম্পর্কে এমন আরও মজার এবং তথ্যবহুল আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন।
Tags:
Blogs
